সোমবার, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল | ২৩শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৩শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

বড়দিনের আগমুহূর্তে পুরান ঢাকার বারোয়ারী দোকানগুলোতে ভিড়

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘ক্রিসমাস ডে’ উপলক্ষে ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে সাজসাজ রব পড়ে যায়। পিছিয়ে থাকে না বাংলাদেশও। প্রতিবছরই এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ভিন্নরূপ ধারণ করে রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল, গির্জাসহ বিভিন্ন নামীদামী রেস্টুরেন্টগুলো। এতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা ছাড়াও ভিড় জমান অন্য ধর্মের মানুষরাও। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়লেও আয়োজনের কমতি নেই। বিশেষ করে শেষ সময়ে রাজধানীর চকবাজার এলাকায় বারোয়ারী দোকানগুলোতে জমে উঠেছে বড়দিনের কেনাকাটা।
শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) চকবাজারে গিয়ে দেখা যায়, ক্রিসমাস ট্রি, কাগজের তৈরি ফুল, গিফট পেপার, বিভিন্নরকম আলোকসজ্জার সরঞ্জাম, ছোটদের খেলনাসহ ‘সান্তাক্লজ’ সাজার উপকরণ বিক্রির ধুম পড়েছে। বড় দিনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে চলছে নান্দনিক সাজসজ্জার প্রস্তুতি। চকবাজারে এসব দোকানে কৃত্রিম ফুল, তারা, পাটের দড়ি, ঘণ্টা ইত্যাদি নানারকম ঘর এবং গাছ সাজানোর সামগ্রী খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড়দিন জমকালো করতে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন রং ও আকৃতির মোমবাতি। কোনও কোনও দোকানে সুগন্ধি মোমবাতিও পাওয়া যাচ্ছে।
বেচাকেনা কেমন হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে চকবাজার এস আর প্রোডাক্ট নামের দোকানের বিক্রেতা রাহাত বলেন, ‘শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়ার জন্য কার্ড আর ক্রিসমাস ট্রিই আমাদের বেশি পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শিশুদের বিভিন্ন খেলনা, পুতুল, ডেকোরেশন পিস, ঘণ্টা, ছোট বল, মগ, ছবির ফ্রেম, চাবির রিং, ম্যাজিক বক্স, পার্টি স্প্রে, বেলুন বেশ চলে।’
কথা হয় বড়দিনের কেনাকাটা করতে চকবাজারে আসা মার্ক মিলন নামের এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বড়দিনে সাধারণত শিশুরা সান্তাক্লজ সাজতে অনেক পছন্দ করে। তাদের জন্য সান্তার পোশাক না কিনলে হয় না। বিশেষ করে লালটুপি তাদের অনেক পছন্দ। বেশকিছু দিন ধরে আসবো আসবো করেও আসা হয়নি। আজ ব্যস্ততার ফাঁকেই চলে এলাম সান্তাক্লজ সাজার উপকরণ কিনতে।’
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার এসব পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেশি বলেও অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। এই ক্রেতা বললেন, ‘দামের ব্যাপারে কিছু বলার নেই। সবকিছুর দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে সান্তার পোশাকেরও।’
বেচাকেনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চকবাজারে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। বারোয়ারী একটি দোকানী স্বত্বাধিকারী তাজিম উদ্দিন চিশতী নিজাম বলেন, ‘সব কিছুর দাম বেড়েছে। বড় দিন উপলক্ষে ক্রিসমাস ট্রি ও আনুষঙ্গিক ঘর সাজানোর জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত কোনও কোনটির। এই জন্য অনেক ক্রেতা দামাদামি করে ফিরে যাচ্ছেন এবং দোকানে ভিড় থাকলেও নেই আমাদের তেমন বেচা-বিক্রি।’
একইসঙ্গে বড়দিনের জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা উদগ্রীব ছিলেন ক্রিসমাস ট্রি কিনতে আসা সৈকত ডি কস্তা নামের একজন ক্রেতা। তিনি বলেন, আগে একটি ০৮-১০ ফুট উচ্চতার ক্রিসমাস ট্রি কিনতাম ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। এখন বিক্রেতারা তার দাম হাঁকাচ্ছে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বেড়েছে। আমরা বছরে একটা বড় উৎসব পালন করি, এটাকে কেন্দ্র করে বিক্রেতারা যেভাবে জিনিসপত্র দাম বাড়ছে তাতে করে আমাদের সম্প্রদায়ের অনেকে সাদামাটা উৎসব পালন করছেন।
বিশেষ ধরনের শুভেচ্ছা কার্ড কিনতে আসা তনিমা রোজারিও নামের আরেকজন ক্রেতা বলেন, ‘খ্রিস্টান ধর্ম মতে প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই দিনে খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট পৃথিবীকে আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন। বেথেলহেমের এক গোয়ালঘরে কুমারীমাতা মেরির কোলে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আমরা এই দিন টিকে উৎসবমুখর পরিবেশে বড় দিন হিসেবে উদযাপন করি। আর সেই দিন উদযাপনের সব আয়োজন আগেই সম্পন্ন হয়েছে, বাকিটুকুর কেনাকাটাও আজ শেষ।’
এবছরের বড়দিন উদযাপন নিয়ে কিছুটা উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন এই ক্রেতা। তিনি বলেন, প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর সারা বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিনে বড়দিন পালন করেন। এ বছর ও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এবছর কিছুটা অন্যরকম অনুভব হচ্ছে। বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড় দিন পালন করতে যাচ্ছে। আশাকরি কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না, যিশু সবার মঙ্গল করবেন।

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন দিন