শুক্রবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল | ২০শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২০শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১৫ বছরে মাধ্যমিকে ১৩৫ কোটি টাকারও বেশি পাঠ্যবই বিনামূল্যে বিতরণ

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বিগত ১৫ বছরে সরকার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিন্যামূল্যে বিতরণ করেছে ১৩৫ কোটি ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৬২৬টি পাঠ্যবই। এর মধ্যে গত ১৪ বছরে ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট দিয়েছে ১১৭ কোটি ৬৬ লাখ ১৩ হাজার ৪৩৫ কপি পাঠ্যবই। এসব বই ১২৩ কোটি ৬৭১ লাখ ৭০৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এসব পাঠ্যবই প্রণয়ন ও মুদ্রণে সরকারের মোট ৭৩১৪ কোটি ২৪ হাজার ৭৩৩ টাকা ব্যয় হয়েছে। আর চলতি বছর ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ১৯১টি পাঠ্যবই দেওয়া হবে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের। এই বই প্রণয়নে বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেওয়ার কারণে দেশের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ (এনরোলমেন্ট) বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৯ শতাংশ। একই সঙ্গে বছরের প্রথম মাসে বই পাওয়ায় শ্রেণি পাঠদানে পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে ২০২৩ সাল থেকে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষাক্রম পরিবর্তনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এসব তথ্য জানায়।
এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান বলেন, ‘বিন্যামূল্যে সরকারের পাঠ্যবই বিতরণ শুরু করা হয় শিক্ষার হার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে। বিনামূল্যে বই বিতরণের পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এনরোলমেন্ট বেড়েছে। প্রথম দিকে ২০১৪-১৫ সালের দিকে এতটাই বেড়েছিল যে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় জায়গা দেওয়ার সমস্যা হচ্ছিল। সে কারণে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেকশন বাড়াতে হয়েছে, শিফট চালু করতে হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের মূল লক্ষ্য সকল শিশুকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সেটা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি বছরের প্রথম দিকে বই দেওয়ার কারণে বছরের শুরুতে শ্রেণি পাঠদানে আর বিলম্ব হয় না। আগে তিন থেকে চার মাস পর ক্লাস শুরু হলেও এখন জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু করা যাচ্ছে। ব্রেইল বই, আদিবাসীদের মাতৃভাষার বই দেওয়ার কারণে সেখানেও এনরোলমেন্ট বেড়েছে। ফলে গুণগতমানেও প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে আমরা নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করছি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সরকার ২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত (ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি) সর্বমোট ১১৭ কোটি ৬৬ লাখ ১৩ হাজার ৪৩৫ কপি পাঠ্যবই ১২৩ কোটি ৬৭১ লাখ ৭০৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করেছে। এসব পাঠ্যবই প্রণয়ন ও মুদ্রণে সরকারের মোট ৭৩১৪ কোটি ২৪ হাজার ৭৩৩ টাকা ব্যয় হয়েছে।
আর চলতি বছর মাধ্যমিকে দেওয়া হবে ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ১৯১টি পাঠ্যবই। এই বই প্রণয়নে বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্কুলের ১ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার ১০৭ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৬৭টি পাঠ্যবই। দাখিল ষষ্ট থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৮ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ৪ কোটি ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪২টি পাঠ্যবই। ইংরেজি ভার্সনের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ১১ লাখ ৭২ হাজার ৫৭টি পাঠ্যবই। কারিগরি ট্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৪ জন শিক্ষার্থীকে ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭০২টি পাঠ্য বই, এসএসসি ভোকেশনাল ৬ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৫টি পাঠ্য বই, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া হবে ৭২৮টি বই। এসব বই প্রণয়নে বরাদ্দ ধরা হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা।
সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষাকে মানসম্মত, সর্বব্যাপী ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীদের কাছে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর ১ জানুয়ারি ‘বই উৎসব’ উদযাপনের মাধ্যমে একযোগে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৪ বছরে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৩৪০টি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করতে পাঠ্যপুস্তকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংযোজন করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ওয়েবসাইটে ই-বুক আপলোড করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের যেকোনও প্রান্ত থেকে ডাউনলোড করে পাঠ্যবই ব্যবহার করা যায় এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ব্রেইল পদ্ধতির পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্রেইল পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল ভার্সন এনসিটিবি’র ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন দিন