সোমবার, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল | ২৩শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৩শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শ্রীপুরে তীব্র শীতেও ঝুপড়ি ঘরেই চলছে শিশুদের পাঠদান

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
লেনিন জাফর,(শ্রীপুর)মাগুরা:
মাগুরাসহ সারাদেশ কাঁপছে শীতের দাপটে, ক্রমেই কমছে তাপমাত্রা, মাঝে মাঝে ই হচ্ছে বৃষ্টি। প্রায়ই মিলছেনা রোদের দেখা। হাড় কাঁপানো শীতের কুয়াঁশাচ্ছন্ন সকালে এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কাঁপতে কাঁপতে ঝুপড়ি ঘরের ক্লাস রুমেই ঠায় নিচ্ছে! বিদ্যালয়ে নতুন বিল্ডিং তৈরি হলেও সেখানে তারা উঠতে পারেনি নানাবিধ কারণে!
এমন চিত্র মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। প্রায় এক বছর আগে বিদ্যালয়ের পুরনো বিল্ডিংটি ভেঙে নতুন ভবনের কাজ শুরু হয়। গত দেড় মাস আগে নতুন ভবনের কাজ শেষ হলেও কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এখন পর্যন্ত নতুন ভবনটি হস্তান্তর সম্ভব হয়নি।
গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক উম্মুল খায়ের সালমা জানান, শৈত্য প্রবাহের কারণে কনকনে শীতের মধ্যে খোলা জায়গায় ক্লাসে পাঠদান কঠিন। শীতের কারণে ছাত্র-ছাত্রীরাও মনোযোগ হারাচ্ছে। বৃষ্টিতে এখানেও ক্লাস নেওয়া একদম অনুপযোগী হয়ে উঠে। এ অবস্থায় বছর খানেক ধরে এভাবেই ক্লাস নেওয়া হচ্ছে,এতে অনেক ছাত্র ছাত্রীরা সর্দিকাশি ও জ্বরসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
তিনি আরোও জানায়, গত ৪/৫ দিনের তীব্র শীতের কারণে বাড়ি থেকে বের হওয়াই কঠিন। গ্রাম এলাকা হওয়ায় শীতের তীব্রতাও বেশি। তার উপর সকালে কোমলমতি শিশুদের জন্য এইরকম খোলামেলা ঘরে ক্লাস নেওয়া খুবই কঠিন।
গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী রিক্তা খাতুন জানাই, তীব্র শীতে এখানে (ঝুপড়ি ঘরে) ক্লাস করতে কষ্ট হয়। ঠান্ডা বাতাস লাগে চারদিক থেকে। এতে আমাদের সর্দিকাশি, জ্বর আসে। আমরা আমাদের স্কুলের নতুন বিল্ডিং এ ক্লাস করতে চাই।
গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আতিয়ার রহমান জানান, এক বছর ধরে আমরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। তীব্র শীতে খোলামেলা পরিবেশে শিশুদের খুব কষ্ট হয়। নতুন ভবনের সব কাজ শেষ হয়েছে। জানিনা কি কারণে ভবনটি আমাদের হস্তান্তর করা হচ্ছে না? কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা বিবেচনায় আমি চাই ভবনটি আমাদের নিকট দ্রুত হস্তান্তর করা হোক।
শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রশিদ জানান, আমি বেশ কয়েকবার ওই বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়েছি। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে অবগত করেছি।
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী প্রসেনজিৎ চক্রবর্ত্তী জানান, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনটি হস্তান্তর যোগ্য হয়েছে। কিছু প্রসেসিং বাকি আছে, সেগুলো খুব দ্রুতই শেষ করে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করছি।
প্রচন্ড এই শীতে জুবুথুবু যখন মাগুরাসহ সারাদেশ! সেই মূর্হুতে মাগুরা শ্রীপুরের গোয়াল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে ঝুপড়ি ঘরে ক্লাস নেওয়ার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ নতুন ভবনে ক্লাস নেওয়ার সুব্যবস্থা করবেন এমনটাই আশা করছেন এলাকার সচেতন মহল।
Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন দিন