সোমবার, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল | ২৩শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৩শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনে চাপে জেলেনস্কি

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

২০২২ সালের শুরু থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করছে ইউক্রেন। এরমধ্যে ২০২৪ সালের শুরুতে দেশটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে নির্বাচনের। তবে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন কতটা ফলপ্রসূ হবে তাই এখন চিন্তার বিষয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলছেন, এখন নির্বাচনের সঠিক সময় না। অন্যদিকে জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে হটাতে দেশটির নির্বাচন আয়োজনের জন্য নেপথ্যে চাপ প্রয়োগ করছে মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা। এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের অনেকের মত যে, নির্বাচনই একটা জাতিকে এ পরিস্থিতিতে রক্ষা করতে পারে। তবে চলতি মাসের শুরুতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এখন নির্বাচনের সঠিক সময় না। এরপর থেকেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত না করার পক্ষে দাবি জোরালো হচ্ছে। এর জের ধরেই একটি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জন্ম নিয়েছে। তবে জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে নির্বাচনের ইস্যুতে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক ওপরার চেয়ারওম্যান ওলহা আইভাজোভস্কা বলেছেন, ইউক্রেনের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিচ্ছে বিশেষ করে মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান দলের সদস্যরা। তিনি বলেন, এই রিপাবলিকানরা ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করার জন্য মূলত এই দাবি তুলেছে। আইভাজোভস্কা আরও বলেন, এমন না যে, সব রিপাবলিকানরা ইউক্রেনকে সমর্থন করে না , তবে তারা নির্বাচনের সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে।
উল্লেখ্য ইউক্রেনে বাইডেন পুত্র হান্টারের কর্মকাণ্ড নিয়ে কয়েক বছর ধরে তদন্ত করে আসছে রিপাবলিকানরা। তাদের অভিযোগ বাইডেন তার ছেলের ব্যবসায় রক্ষার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। যদিও এর সাপেক্ষে এখনও কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে নির্বাচন করতে আগ্রহী না জানালেও এখনও সরাসরি না করেননি জেলেনস্কি। যুদ্ধ চলাকালীন নির্বাচনের প্রধান সমস্যা হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন নিরাপত্তা, আইন ও তহবিল সংক্রান্ত জটিলতা।
ইউক্রেনের সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে জেলেনস্কি বলেন, এক বছরের মধ্যে যখন প্রয়োজন নির্বাচন করা হবে। প্রেসিডেন্টের এই কথার সাথে সুর মিলিয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা বলেন, জেলেনস্কি যুদ্ধের সময় বিবেচনা করেই নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন নির্বাচন দিলে সামরিক আইন পরিবর্তন করা দরকার হবে। এরপরেও ভোট গ্রহণে বাধা রয়েছে। এখন জনগণের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এই নিয়ে একমত প্রকাশ করেছে বিশেষজ্ঞরাও। বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তারা।
চলতি মাসে কিয়েভের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ সোসিওলজি দ্বারা পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে শতকরা ৪০ ভাগেরও বেশি মানুষ এখন নির্বাচনের পক্ষে না। বিরোধী ও ক্ষমতাসীন দুই দলের এমপিরা দাবি জনিয়েছেন, আগামী বছর নির্বাচন করা ভুল সিদ্ধান্ত হবে।

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন দিন