শুক্রবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল | ২০শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২০শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

যুদ্ধের ভিডিও দেখে কৃত্রিম হাত তৈরি, খরচ ৩০ হাজার টাকা

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক সৈনিকের ভিডিও ফেসবুকে দেখেই স্বল্প টাকায় কৃত্রিম হাত তৈরিতে উৎসাহী হয়েছেন বরিশালের কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী উদ্ভাবক প্রীতম পাল। ভিডিওতে হাত হারানো ওই সৈনিককে সন্তানকে জড়িয়ে আদর করতে না পারার আক্ষেপ দেখে কৃত্রিম হাত বানানোর উদ্যোগ নেন এই শিক্ষার্থী।
কলেজ পড়ুয়া উদ্ভাবক প্রীতম পাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে বাবা বাড়ি আসছে তাই অধীর আগ্রহে পথ চেয়ে আছে সন্তানরা। কলিং বেল চাপতেই দরজা খুলে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো। সন্তানের অপেক্ষা বাবা তাদের জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে নিয়ে আদর করবে। আবার সন্তানদের ভাবনা এলো বাবা ফুল দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানাতে হাত হয়তো তার পেছনে রেখে সারপ্রাইজ দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটলো না, কারণ যুদ্ধে হারিয়ে ফেলেছেন একটি হাত। কোনোভাবেই সন্তানদের জড়িয়ে আদর করতে না পারলো না।’
ভিডিওটি দেখে কৃত্রিম হাত তৈরীর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। স্বপ্ন দেখা থেকে মানব কল্যাণে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে একাগ্র চিত্তে মনোযোগী হন প্রীতম। অধ্যবসায়ের কারণে সেই স্বপ্ন বাস্তবে ডানা মেলে।
প্রীতম ডেমো হিসেবে হাতটি প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি করেছেন। এ ছাড়া একাধিক সেন্সর ব্যবহারসহ প্রোগ্রামিং বানিয়েছেন। তিনি জানান, সৃষ্টিকর্তা যেভাবে হাত দিয়ে মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন হুবহু সেভাবে কোনও কিছু করা সম্ভব নয়। তবে তার আবিষ্কৃত হাতের পাঁচটি আঙ্গুল কাজ করবে। সে ক্ষেত্রে তাকে আরও কাজ করতে হবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। তার ইচ্ছে ডেমো করেই বসে থাকা নয়, একটি হাত তৈরি করে তা কোনও মানুষের দেহে সংযোজন করার পর সে কীভাবে ব্যবহার করছে তা দেখবেন। এ ছাড়া দেহের অন্যান্য অঙ্গ নিয়েও কাজ করার আগ্রহ রয়েছে প্রীতমের।
প্রীতম বরিশাল অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের শিহিপাশা গ্রামের বাসিন্দা ও রাজিহার ইউপি সচিব গৌতম পাল এবং গৃহিণী কাজলী পালের বড় সন্তান।
প্রীতম জানান, হোস্টেলে থেকে তার বাবার কাছ থেকে আনা পড়ালেখার খরচ থেকে কিছু অর্থের সঞ্চয় করে এই কাজে মনোযোগ হন। কালক্রমে উদ্ভাবনী বিষয়টি তার সহপাঠী ও বাবাও জানতে পারেন। বাবা তাকে উৎসাহিত করায় মাঝেমধ্যে বাবার কাছ থেকেও চেয়ে নিয়েছেন। নিজের সঞ্চয় ও পরিবারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় শুরু করেন এই রোবোটিক আর্মের পেছনে। নিরলস পরিশ্রমে প্রীতমের দেখা স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দেয়।
তিনি জানান, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সারা দেশসহ বিশ্বে বহু মানুষকে হাত হারাতে হয়। বেঁচে থাকার জন্য বাকি জীবন তারা কর্মহীন হয়ে পড়েন। এমন মানুষের জন্যই তার আবিষ্কৃত রোবোটিক আর্ম বা কৃত্রিম হাত মানবদেহে সংযোজন করা যেতে পারে। মানবদেহে এই কৃত্রিম হাত সংযোজন করলে অনায়াসে কাজ করতে পারবে। স্বাভাবিকভাবেই এই হাত দুই থেকে ছয় কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে সক্ষম। হাত তৈরিতে খরচ হয়েছে মাত্র ৩০ হাজার টাকা।
সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি বরিশাল সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ মেলায় হাতটি প্রদর্শন করে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন।
প্রীতমের বাবা গৌতম পাল জানান, তার ছেলের উদ্ভাবন নিয়ে তিনি আনন্দিত। মানব কল্যাণে কাজ করায় ছেলের আর্থিক চাহিদা পূরণ করে আসছেন। তবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রীতম তার উদ্ভাবনীতে আরও সাফল্য পাবে।

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন দিন