সোমবার, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল | ২৩শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২৩শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বদলে যাচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দরের চিত্র

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

বেনাপোল প্রতিনিধি:

বহুমুখী উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থলবন্দরের চিত্র। এরই অংশ হিসেবে ধারাবাহিক উন্নয়নে ২৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে সুবিশাল ২৪ একরের আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ভেহিকেল ট্রাক টার্মিনাল। যেখানে একসঙ্গে রাখা যাবে ১ হাজার ২০০ পণ্যবাহী ট্রাক।
এ ছাড়া বাস ও যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভেহিকেল ট্রাক টার্মিনালটি ভারত সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় দ্রুত এটি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির আওতায় আনার কাজও শুরু হবে।
এর আগে বন্দরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এবং পণ্যাগারগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছিল। চলতি বছরের জুনে শেষ হবে চলমান ভেহিকেল টার্মিনালের কাজ। এতে বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল। উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে পুরনো বাস ও যাত্রী টার্মিনালের পরিবর্তে নির্মিত হয়েছে সুপরিসর আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল। পণ্য রাখার শেড ও ইয়ার্ডও বদলে যাচ্ছে এখানে। এবার নির্মিত হচ্ছে বিশাল ট্রাক টার্মিনাল।
এমনিতেই ভারতের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ সহজ হওয়ায় বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল বেড়েছে বহুগুণ। কিন্তু বন্দরের পুরানো অবকাঠামোতে বাড়তি যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হচ্ছিল এত দিন।
এ অবস্থায় ২০২০ সালে বেনাপোল বন্দরের উন্নয়নে ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। ২০২২ সালে শুরু হয় ২৪ একর জমির ওপর সুপরিসর ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণের কাজ। একসঙ্গে এখানে এক হাজার ২০০ পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড়াতে পারবে। আগামী জুন মাসে এ কাজ শেষ হবে বলে জানায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা মোজাম্মেল হক।
এ ছাড়া এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাস ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল নির্মাণ এবং পুরো বন্দরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে জানান বন্দর ব্যবহারকারীরা।
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান আলী জানান, বন্দরে সুউচ্চ বাউন্ডারি ওয়াল, স্টাফ ডরমিটোরি ভবন এবং পণ্য পরিমাপের দুটি স্কেল স্থাপন করা হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এসব কাজ শেষ হলে বন্দরের সক্ষমতা ও রাজস্ব আয় দুটোই বাড়বে।
বন্দরের পরিসংখ্যানমতে, ২০১১-১২ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ১২ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ লাখ ৩৫ হাজার ৪৯৯ মেট্রিক টন।
বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে যেসব কাজ হাতে নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, এসব কাজ শেষ হলে বন্দর আধুনিকতায় পূর্ণতা পাবে, এমনটাই মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
এসএসআর নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জি এম মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন জানান, কার্গো ভেহিকেল ট্রাক টার্মিনালের নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের জুন নাগাদ শেষ হবে।
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রেজাউল করিম জানান, গেল ১৫ বছরে বন্দর আধুনিকায়নে সরকারি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৬৮৫ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ করা হয়েছে, যে উন্নয়ন করতে পারেনি আগের সরকারগুলো।
তিনি আরও বলেন, ২৪ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন ভেহিকেল ট্রাক টার্মিনালের কাজ আগামী জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ভেহিকেল ট্রাক টার্মিনালটি চালু হলে বেনাপোল বন্দরে কোনও যানজট থাকবে না।

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন দিন