শুক্রবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল | ২০শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২০শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গাজীপুর-১ আসন ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

পলা বর্মন:

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ¦ এ্যাড. আ. ক. ম মোজাম্মেল হক। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাসেল। তাদের ব্যাপক গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণায় গাজীপুর-১ আসনে ভোটের লড়াইয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এগিয়ে রয়েছেন বলে স্থানীয় ভোটারদের অভিমত। এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা-সমালোচনায় মুখরিত তাদের সমর্থক ও ভোটাররা।
স্থানীয় ভোটার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর অদুরে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ আসনটি হচ্ছে গাজীপুর-১। গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলা, কালিয়াকৈর পৌরসভা এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ নাম্বার ওয়ার্ড থেকে ১৮ নাম্বার ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত আসনটি। টানা তিন বার গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি দখল করে রেখেছেন হেভিওয়েট মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনেও চর্তুথ বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ১৯শে মার্চের এ মহানায়ক। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। তিনি গত ১৯৭৩-১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ৩ বার জয়দেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান, ১৯৮৯-২০০৮ সাল পর্যন্ত ৪ দফায় গাজীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত ২০০৮ সালে পৌর মেয়র থেকে পদত্যাগ করে প্রথম নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন বর্ষিয়ান এ নেতা। এরপর তিনি দশম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এ আসন থেকে পূনঃনির্বাচিত হন। পর পর দুই বার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন স্বাধীনতা পুরষ্কার প্রাপ্ত এ নেতা। বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তার নিজ আসনে ব্যাপক উন্নয়নে ভুমিকা রাখার জন্য সাধারণ ভোটারদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর উপরই আস্থা । অপরদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রথম বারের মতো সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন রেজাউল করিম রাসেল। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্ধোহী প্রার্থী হয়েও কালিয়াকৈর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। সর্বশেষ ২০২১ সালে কালিয়াকৈর পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমানের কাছে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হন এ নেতা।
ওই স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক প্রতীক) রেজাউল করিম রাসেল বলেন, এখন পর্যন্ত যে পরিবেশ রয়েছে, এখান থেকে মনে হচ্ছে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে নির্বাচন কমিশন অগ্রসর হচ্ছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তারুন্যকে কাজে লাগিয়ে আমি এগিয়ে যাচ্ছি। গত ৪২ বছর কালিয়াকৈরের মাটি থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য মহান সংসদে যেতে পারেনি। যেহেতু এ মাটির সন্তানকে সংসদে পাঠানোর সুযোগ পেয়েছে। সেহেতু আমি বিশ্বাস করি এবার জনতা মাটিকে ভোট দিতে যাচ্ছে। তবে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
স্থানীয়রা বলছেন, জুট ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিত কিছু নেতাকর্মী ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। এছাড়াও কালিয়াকৈর থেকে এমপি চান উপজেলাবাসী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নবীন এ নেতার ছায়াশক্তি হিসেবে কাজ করছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ফলে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী। আর বেশির ভাগ নেতাকর্মী নৌকার পক্ষে কাজ করছেন এবং ব্যাপক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নৌকার প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান স্থানীয়রাও। বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে ওই প্রার্থী ও সমর্থকরা ব্যাপক গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন। ফলে প্রবীণ আর নবীণের লড়াইয়ের সম্ভাবনায় দিন দিন উত্তপ্ত হচ্ছে নির্বাচনী মাঠ। এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা-সমালোচনায় মুখরিত তাদের সমর্থক ও ভোটাররা। ওই দুই প্রার্থীর লড়াই হলেও মন্ত্রীর ব্যপক গণজোয়ারে তার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশী রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
নৌকার প্রার্থী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। ৫০ বছর যাবত জনপ্রতিনিধিত্ব করছি। এই সময়ে দলের কার্যক্রলাপে ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে সততার সাথেই কাজ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস জনগণ নির্বাচনে সে কাজের মূল্যায়ন করবে। আমাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করলে এ আসনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবো। এছাড়াও মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি রোধসহ নাগরিক সুবিধা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভুমিকা রাখবো।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী জানান, আগামী ৭ জানুয়ারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠ করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন দিন