শুক্রবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, বসন্তকাল | ২০শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
শুক্রবার, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ | ২০শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি | ১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কারাগারে থেকেও নির্বাচন জয়ের পরিকল্পনা করছেন ইমরান খান

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মাত্র দুই বছরেরও কম সময়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে কারাগারে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এই সময়ের মধ্যে সাবেক এই ক্রিকেট তারকা ও তার গঠিত দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দলেরও নাটকীয় পতন হয়েছে। তাকে দশ বছরের জন্য নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি নিজেদের নির্বাচনি প্রতীকও হারিয়েছে দলটি। এরপরও ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার আশা ছাড়েনি দলটি। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে নির্বাচনে জয়ী হতে দলটির নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
পিটিআই-এর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় এখন কারাগারে রয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। দলটির মনে করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই রাজনৈতিক ধস কাটিয়ে উঠতে পারবে তারা। যদিও তাদের বেশিরভাগ প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী নতুন ও আগে তারা নির্বাচনে অংশ নেননি।
পাঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোট থেকে পিটিআইয়ের প্রার্থী হয়েছেন রেহেনা ধর। ৭০ বছর বয়সী রেহেনার সহকর্মীদের অনেকেই ধরপাকড় ও মামলার ভয়ে পালিয়ে রয়েছেন। ফলে অপ্রত্যাশিতভাবে রাজনীতিবিদ হয়ে উঠা রেহেনা বলেছেন, ‘আমি ইমরান খানের সঙ্গে আছি, থাকব। জনসম্মুখে একা ছেড়ে দিলেও আমি ইমরানের পতাকা নিয়ে রাস্তায় নামব।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার আত্মবিশ্বাস দেখে মনে হচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে ভোটারদের জন্য কাজ করছেন তিনি।
অবশ্য দৃশ্যত তিনি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন পিটিআইয়ের ক্রিকেট ব্যাট প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়ার পর, দলটির সব প্রার্থীই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের পিটিআইয়ের প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। দলটি বলছে, ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রস্তুতির সময় এমন সিদ্ধান্ত তাদের পথে আরেকটি রাজনৈতিক বাধা।
মনে হতে পারে, এটি একটি ছোট সিদ্ধান্ত। কিন্তু যে দেশের ৫৮ শতাংশ মানুষই নিরক্ষর, সেখানে ব্যালটে প্রার্থীদের জন্য একটা নির্দিষ্ট প্রতীক থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গত নির্বাচনে রেহেনার ছেলে উসমান শিয়ালকোটে দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি সিনিয়র পিটিআই নেতা এবং ইমরান খানের যুব বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অক্টোবরের শুরুতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ-সহিংসতার পর, মামলা-হামলার ভয়ে পিটিআইয়ের বহু নেতাকর্মী পালিয়ে যান। উসমানের মতো অনেকেই এখনও কারাগারে রয়েছেন। কয়েকজন প্রার্থী কারাগার থেকেই প্রচারণা চালাচ্ছেন। দোষী সাব্যস্ত না হলে কারাগার থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন তারা। অন্যরা পুলিশের ভয়ে লুকিয়ে আছেন। এমন একজন প্রার্থী হলেন খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক মন্ত্রী আতিফ খান। মে মাস থেকে পালিয়ে আছেন তিনি। প্রচারণা চালাচ্ছেন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। তার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস সুষ্ঠু বিচার পাবেন না তিনি। তাই প্রকাশ্যে আসছেন না।
তাদের মতে, ‘পিটিআই-এর সবচেয়ে বড় সমর্থক তরুণ ভোটাররা। তারা মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সক্রিয়। তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিই ব্যবহার করছেন তারা।’
পিটিআই-এর প্রচারণার জন্য প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের অফিসিয়াল এক্স, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকে লাখ লাখ ফলোয়ার যা অন্য দুটি প্রধান দল – পিপিপি এবং পিএমএল-এন – এর সমন্বিত সংখ্যার চেয়ে বেশি। তাছাড়া এসব মাধ্যমে ইমরান খানের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যার মাধ্যমে তার বার্তা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে। এছাড়া ক্রিকেট-ব্যাট ছাড়াই পিটিআই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে ভোটাররা নির্বাচনি এলাকায় পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীর প্রতীক সহজেই খুঁজে পেতে পারেন।
নির্বাচনি সভা আয়োজনেও বাধার সম্মুখীন হয়েছে পিটিআই। পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীদের সভায় পুলিশ বাধা দিয়েছে। ধরপাকড় চালিয়েছে। যেভাবেই হোক, তাদেরকে প্রচারণা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও ইমরান খানের কারাদণ্ডের খবর ছাড়া অন্য কেন খবর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এমন সমস্যার সমাধান হিসেবে দলটি হাজির হয়েছে ভার্চুয়াল সমাবেশের ধারণা নিয়ে। পিটিআই-এর সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান জিবরান ইলিয়াস শিকাগো থেকে ফোনে বিবিসিকে বলেছেন, এটি সস্তা, নিরাপদ ও দ্রুত। শারীরিক উপস্থিতির সমাবেশের তুলনায় হয়ত এগুলোর প্রভাব কম। কিন্তু আমাদের বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা তো করতে হবে। ইমরান খানকে ছাড়া আমরা আগে কোনও রাজনৈতিক সমাবেশ করিনি। তাকে ছাড়া এসব সমাবেশ কাজে আসবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
ইলিয়াস বলছেন, মানুষ ইমরান খানের বক্তব্য শুনতে চাইছে।
কিন্তু তিনি কারাগারে। ফলে সমাধান হিসেবে ডিসেম্বরে একটি অনলাইন সমাবেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ইমরানের বক্তব্য প্রচার করা হয়েছিল।
এমন উদ্যোগগুলোতেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পিটিআই সমাবেশকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিকবার ব্যাঘাত ঘটেছিল।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউট-এর পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ৩০ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। ফলে পিটিআই-এর বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টায় অনলাইন প্রচারণায় সীমাবদ্ধতা থাকবে। অতীতেও এমন হয়েছে। গত নির্বাচনে নওয়াজ শরিফ কারাগারে থাকার সময়ও এমনটি ঘটেছে।
এমন অবস্থায় ভোটাররা মনে করতে পারেন, পিটিআই বা ইমরান খানের জয়ের আশা নেই। সেক্ষেত্রে তাদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির হার অনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন অবস্থায় শুধু ইমরান খানের নামের ম্যাজিক কি পিটিআইকে জিতিয়ে দিতে পারবে?
কুগেলম্যানও বলছেন, ভোটাররা মনে করতে পারেন পিটিআই-এর জয়ের কোনও সম্ভাবনা নাই তা ভোট দিয়ে লাভ নাই। ফলে প্রশ্ন হচ্ছে ইমরান খানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এত কিছু পরও দলটির নেতৃত্ব ভোটারদের ভোট দিতে কতটা প্রেরণা যোগাতে পারবেন। দলটির অনেকে মনে করেন, যদি মানুষ ভোট দিতে বের হয় এবং উপস্থিতি বেশি হয়, তাহলে হয়ত অলৌকিক কিছু ঘটবে এবং দলটি জয়ী হতে পারে।

Facebook
LinkedIn
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিজ্ঞাপন দিন